Wednesday, December 19, 2018

ঘরের কাজে আহলিয়াকে সহযোগিতা করা খাস সুন্নত


ধর্মীয় ডেস্কঃ ব্যক্তিজীবনে রাসুলে পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার পরিবারের নিকট ছিলেন সর্বোত্তম মানুষের চেয়েও লক্ষকোটিগুণ উত্তম। অবসর সময়ে তিনি পারিবারিক কাজে অংশগ্রহণ করতেন। নিজের কাজ তিনি নিজেই করতেন। আসওয়াদ রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু বলেন, আমি একবার মা আয়েশা সিদ্দিকা (আলাইহাস সালাম) কে জিজ্ঞাসা করলাম, রাসুলে পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ঘরের মধ্যে কী কোন কাজ করতেন? উত্তরে তিনি বললেন, তিনি ঘরের কাজে ব্যস্ত থাকতেন, অর্থাৎ গৃহস্থালি কাজে পরিবার-পরিজনের সহযোগিতায় থাকতেন। যখন নামাজের সময় হতো তখন নামাজে চলে যেতেন। (বুখারি শরীফ, হাদিস নং : ৬৭৬)

পৃথিবীর শ্রেষ্ঠ ব্যক্তিত্ব মুবারক হওয়া সত্ত্বেও রাসুলে পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম কতটা নমনীয় ছিলেন এবং অতি সাধারণ কাজও নিজ হাতে করেছেন তা কেউ কল্পনাও করতে পারবেনা। বিভিন্ন হাদিসে সেগুলোর বিস্তর ধারণা ও বিবরণ পাওয়া যায়। মা আয়েশা সিদ্দিকা (আলাইহাস সালাম) থেকে বর্ণিত এক হাদিসে আছে, তিনি অন্যান্য মানুষের মতোই একজন ছিলেন (অর্থাৎ রাসূল বলে ঘরের কাজ ফাঁকি দেন নি বরং সেইসব লোকদের মতোই পবিবার কে সাহায্য করতেন যারা নিজ পরিবার কে ঘরের কাজে সাহায্য করতেন)। নিজের কাপড়ের উকুন পরিষ্কার করতেন, বকরির দুধ দোহন করতেন এবং নিজের কাজ নিজেই করতেন। (মুসনাদ আহমদ, হাদিস নং : ২৬১৯৪)

মা আয়েশা সিদ্দিকা (আলাইহাস সালাম) অন্য বর্ণনায় বলেন, তিনি নিজের কাপড় নিজেই সেলাই করতেন। নিজের জুতা নিজেই মেরামত করতেন এবং সাধারণ মানুষের মতোই ঘরের কাজকর্ম করতেন। (তিরমিজি শরীফ, হাদিস নং : ২৪৫৮৯)

পরিবারের প্রতিটি কাজই নিজেদের কাজ। কাজগুলো ভাগাভাগি করে করলে একদিকে যেমন পরিবারের সবার ভেতরে শৃঙ্খলা ও ভালোবাসা বজায় থাকবে, তেমনি আমাদের সমাজ-সংসার থেকে বিলুপ্ত হতে যাওয়া রাসুলে পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর একটি মহৎ সুন্নতও পালন হবে। উপরন্তু সুন্নতের নিয়তে পরিবারের যেকোনো ধরনের কাজ করলে, সার্বক্ষণিক সওয়াব লিপিবদ্ধ হতে থাকে। হাদিসে বর্ণনা হয়েছে, যে ব্যক্তি উম্মতের অধঃপতনের সময় একটি সুন্নতকে আঁকড়ে ধরে সে ১০০ শহিদের সওয়াব পাবে। (আল-কামেল : ৩/১৭৪)

হাদিস শরীফে রাসুলে পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন, যে ব্যক্তি মুসলমানদের মধ্যে কোনো একটি ভালো কাজের প্রসার করবে, সে ওই আমলকারীদের সমপরিমাণ সাওয়াব পাবে, এ ক্ষেত্রে আমলকারীদের সাওয়াব বিন্দু পরিমাণও কমানো হবে না। আর যে ব্যক্তি মুসলমানদের মধ্যে কোনো একটি খারাপ কাজের প্রসার করবে, সে-ও ওই কুকর্মে জড়িতদের সমপরিমাণ গুনাহের অংশীদার হবে, এ ক্ষেত্রেও অপকর্মে লিপ্তদের গুনা বিন্দু পরিমাণ কমানো হবে না। (মুসলিম শরীফ, হাদিস নং : ১০১৭)

দেশের প্রতিটি নাগরিক যদি রাসুলে পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর বিভিন্ন সুন্নতের দিকে অনুপ্রাণিত হতেন, তাহলে পৃথিবীটা আরও অনেক সুন্দর ও উপভোগ্য হতো।


শেয়ার করুন

0 facebook: