Friday, December 20, 2019

আরব নেতাদের বিশ্বাসঘাতকতা ও ইহুদীবাদী সন্ত্রাসী রাষ্ট্র ইসরাঈলের উদ্ভব!

ছবিঃ সুলতান আবদুল হামিদ (দ্বিতীয়) ও ফিলিস্থিন এবং ইসরাঈলের ম্যাপের অতিত ও বর্তমান চিত্র।
২৭ শে এপ্রিল, ১৯০৯। এই রাতে উসমানি খেলাফতের ইতিহাসে একটি যুগান্তরকারী ঘটনা ঘটে। মাহমুদ শওকত পাশার নেতৃত্বে উসমানীয় সালতানাতের চৌত্রিশতম সুলতান দ্বিতীয় আবদুল হামিদ এক অভ্যুত্থানের ফলে শাসনক্ষমতা থেকে পদত্যাগ করতে বাধ্য হন। উনার শাসনক্ষমতা ত্যাগ করার অর্থ হলো ফিলিস্তিন ইহুদিদের হস্তগত হওয়া এবং ধীরে ধীরে মুসলমানদের ক্রীনড়ক ও ক্রীতদাস হয়ে ওঠা। সুলতান আবদুল হামিদের পতনের পর এক দশকরে মধ্যেই উসমানী সালতানাত খণ্ডবিখণ্ড হয়ে যায় এবং মিত্রদের মধ্যে তা বণ্টিত হয়।

প্রথম বিশ্বযুদ্ধে (১৯১৪-১৯১৮) আরব নেতারা শরিফ আল-হুসাইনের সঙ্গে ব্রিটেন ও ফ্রান্সের সঙ্গে যোগ দেয় এবং তুরস্কের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করে। এই যুদ্ধে তুরস্ক পরাজিত হয় এবং তুর্কি সালতানাত ধ্বংসের দ্বারপ্রান্তে উপনীত হয়। ১৯২৪ সালে ইহুদীদের আরেক একনিষ্ট গোলাম মোস্তফা কামাল পাশার অভ্যুত্থানের ফলে সর্বশেষ সুলতান দ্বিতীয় আবদুল মজিদের উৎখাতের মধ্য দিয়ে চিরতরে উসমানি খেলাফতের অবসান ঘটে।

১৯১৬-১৯১৭ সালে উসমানি সাম্রাজ্যের বিরুদ্ধে বৃহৎ আরব অভ্যুত্থান সংঘটিত হয়। ব্রিটিশদের সহযোগিতায় এই অভ্যুত্থানে নেতৃত্ব দিয়েছিল শরিফ আল-হুসাইন (১৮৫৪-১৯৩১) ও তাঁর পুত্র ফয়সাল (১৮৮৩-১৯৩৩)। তাঁদের উদ্দেশ্য ছিলো উসমানি খেলাফতের অবসান ঘটিয়ে আরবে খেলাফত প্রতিষ্ঠা করা। ব্রিটিশ নেতারা আরব অভ্যুত্থানের নেতা শরিফ আল-হুসাইনকে সমগ্র আরবের রাজত্ব প্রদান করা হবে বলে প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলো। কিন্তু অভ্যুত্থান ঘটানোর পর বিপরীত কাণ্ড ঘটে। তাকে গ্রেফতার করা হয় এবং কারাগারে অন্তরীণ রাখা হয়। ইহুদি ও ব্রিটিশদের মদদে আরব অভ্যুত্থান ঘটিয়ে উসমানি সাম্রাজ্যকে খণ্ডবিখণ্ড করা হয়; কিন্তু আরব নেতারা এর ফল ভোগ করতে পারে নি। তাঁরা ব্রিটিশদের বিশ্বাসঘাতকতার শিকার হয় এবং তুর্কি সুলতানের শাসন থেকে নিজেদের মুক্ত করলেও তাঁদের পরিণাম হয় কারাগার। শরিফ আল-হুসাইন তুর্কি সালতানাতের বিরুদ্ধে আরবদের স্বাধীনতার ডাক দিয়েছিল এবং অভ্যুত্থান ঘটিয়ে তাঁদের ওপর থেকে তুর্কি শাসনের শৃঙ্খলও ছিঁড়ে ফেলতে সক্ষম হয়েছিল ঠিকই; কিন্তু শেষ ফল ভালো হয় নি বলে তাঁকে বিশ্বাসঘাতক শরিফও বলা হয়ে থাকে।

আরব অভ্যুত্থানের সময় শরিফ আল-হুসাইনের সহযোগী ছিল ব্রিটিশ সামরিক কর্মকর্তা ও লেখক টমাস লরেন্স। সে ব্রিটিশ এয়ারফোর্সে অফিসার ছিল এবং উসমানি সম্রাজ্যের বিরুদ্ধে আরব বিদ্রোহে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছিল। শরিফ হোসাইনের সঙ্গে সে সার্বণিক যোগাযোগ রাখে এবং তুর্কিদের বিরুদ্ধে অভ্যুত্থানের ব্যাপারে তাঁকে উৎসাহিত করে। টমাস লরেন্স তাঁর Seven Pillars of Wisdom : A Triumph গ্রন্থে লেখে, ‘আমি গর্ববোধ করি যে, আমি তিরিশটি যুদ্ধে উপস্থিত ছিলাম সেখানে ইংরেজদের রক্ত ঝরে নি। আমাদের শাসনের অধীনে যেসব জাতি রয়েছে তাদের সকলের রক্তের চেয়ে একজন ইংরেজের রক্ত আমাদের কাছে বেশি প্রিয়। আরব অভ্যুত্থানে আমাদের কেবল ১০ মিলিয়ন দিনারই ব্যয় হয়েছে।আরব অভ্যুত্থানের পর ইহুদিদের জন্য সব পথ উন্মুক্ত হয়ে পড়ে।

সুলতান আবদুল হামিদের বিরুদ্ধে ইহুদিদের মধ্যে যে বিপুল ক্ষোভ জমেছিলো তার কারণ আছে। উনিশ শতকের শেষ দশকে জায়নবাদী সংগঠনগুলোর নেতা এবং আধুনিক রাজনৈতিক জায়ানবাদের জনক ও ইসরাইলের প্রতিষ্ঠাতা ডেভিড বেন-গুয়েরিনের চিন্তাগুরু থিওডোর হার্জল ফিলিস্তিনে একটি ইহুদি জাতিরাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার জন্য বেশ গুরুত্বের সঙ্গে পরিকল্পনা গ্রহণ করে। সে ১৮৯৫ সালে ইহুদি রাষ্ট্রনামে তাঁর রচিত গ্রন্থ প্রকাশ করে। মূল গ্রন্থটি জার্মান ভাষায় Der Judenstaat নামে প্রকাশিত হয়েছে। ইংরেজিতে সাধারণভাবে The Jewish State অনুবাদ করা হয়।

১৯০১ সালে থিওডোর হার্জল ফিলিস্তিনের মানব বসতিহীন ভূমি ক্রয় করার জন্য সুলতান আবদুল হামিদের সঙ্গে চেষ্টা-চরিত্র করে। সে সুলতানকে তাঁর সাম্রাজ্যের কিছু অংশ ইহুদিদের জন্য ছেড়ে দিতে অনুরোধ জানায়। কিন্তু সুলতান হার্জলের প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেন। ১৯০২ সালে থিওডোর হার্জল আবারও উদ্যোগ নেয় এবং সুলতান আবদুল হামিদের সঙ্গে চেষ্টা-চরিত্র করে। এবার হার্জলের সঙ্গে ফ্রিম্যাসন গুপ্তসঙ্ঘের সদস্য ইহুদি আইনজীবী ইমানুয়েল কারাসুও (Emmanuel Carasso) সুলতান আবদুল হামিদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করে।

থিওডোর হার্জল সুলতান আবদুল হামিদের কাছে কয়েকটি প্রস্তাব তুলে ধরেঃ
১. নগদ ১৫ কোটি ইংলিশ স্বর্ণমুদ্রা প্রদান;
২. উসমানি সাম্রাজ্যের যাবতীয় ঋণ পরিশোধ;
৩. উসমানি সাম্রাজ্যের জন্য নৌবহর নির্মাণ;
৪. জেরুজালেমে (আল-কুদসে) উসমানি বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা;
৫. ইউরোপ ও আমেরিকায় সুলতান আবদুল হামিদের রাজনীতিকে সুরা প্রদান।

ফিলিস্তিনে ইহুদিদের বসতি স্থাপনের অনুমতি প্রদানের বিনিময়ে দেওয়ার জন্য এ-যাবতীয় সুযোগ-সুবিধার কথা বলা হয়েছিলো।

কিন্তু সুলতান আবদুল হামিদ এসব প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেন। থিওডোর হার্জল তাঁর স্মৃতিচারণে উল্লেখ করেছে, ‘সুলতান আবদুল হামিদ আমাকে এই পথে আর একটি পদক্ষেপ না করার উপদেশ দেন। কারণ তিনি ফিলিস্তিনের এক বিঘত জমিও আমাদের জন্য ছাড়তে পারবেন না। কারণ ফিলিস্তিন তাঁর রাজ্য নয়; বরং তা ইসলামি উম্মাহর রাজ্য। ইসলামি উম্মাহ ফিলিস্তিনের জন্য সংগ্রাম করেছে এবং ফিলিস্তিনের মাটি তাদের সন্তানদের রক্তে রঞ্জিত হয়েছে।সুলতান আবদুল হামিদ বলেছিলেন, ‘আমার সাম্রাজ্য থেকে ফিলিস্তিনের বিচ্ছিন্ন হওয়া দেখার চেয়ে আমার দেহের অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ বিচ্ছিন্ন করে ফেলা আমার জন্য বেশি সহজ। আমার জাতি রক্তের বিনিময়ে ফিলিস্তিনের দেখা পেয়েছে। রক্ত ছাড়া সেটা তাদের থেকে কিছুতেই নিয়ে নেওয়া যাবে না। ফিলিস্তিনকে আমার সাম্রাজ্য থেকে বিচ্ছিন্ন করার চেয়ে আমার গলায় ছুরি বসিয়ে দেওয়াটা আমার জন্যে সহজ হবে। আমরা জীবিত থাকতে আমাদের দেহকে বিচ্ছিন্ন হতে দেবো না।তিনি বলেছিলেন, ‘হে থিওডোর হার্জেল, তোমার টাকা যথেষ্ট আছে। আবদুল হামিদ চলে যাওয়ার পর তোমারা মাগনাই ফিলিস্তিন পেয়ে যাবে।সুলতান আবদুল হামিদ তাঁর মুর্শিদ মাহমুদ আবুশ শামাত রহমতুল্লাহি আলাইহিকে এই মর্মে পত্র লেখেন যে, ‘ইহুদিরা আমাকে ১৫ কোটি ইংলিশ স্বর্ণমুদ্রা প্রদানের প্রস্তাব দিয়েছে। আমি তাদেরকে বলে দিয়েছি, তোমরা যদি আমাকে পৃথিবীভর্তি স্বর্ণও প্রদান করো, তারপরও আমি কোনোভাবেই এবং কিছুতেই তোমাদের এই আবদার রক্ষা করতে পারবো না। আমি তিরিশ বছরেরও বেশি সময় ধরে উম্মতে মুহম্মদি ও মুসলিম মিল্লাতের খেদমত করে যাচ্ছি। আমি মুসলমানদের আমার পিতৃপুরুষ উসমানি খলিফা ও সুলতানদের সুনামকে কলঙ্কিত কিছুতেই করতে পারবো না।

ইহুদি ইতিহাসবিদ বার্নাড লুইস তার The Emergence of Modern Turkey (১৯৬১) গ্রন্থে বলে, ফ্রিম্যাসনের সভ্য ও ইহুদি ভাইয়েরা গোপনীয়ভাবে সুলতান আবদুল হামিদের অপসারণে কাজ করে গেছেন। কারণ তিনি ছিলেন চরম ইহুদিবিরোধী। ফিলিস্তিনে ইহুদিদের জন্য মাত্র এক বিঘত ভূমি প্রদানের বিষয়টিও তিনি প্রচণ্ডভাবে প্রত্যাখ্যান করেন।

সুলতান আবদুল হামিদের সঙ্গে তাদের এই বিরোধের পর ইমানুয়েল কারাসু ও থিওডোর হার্জল ইতালি যায়। ইতালি আবদুল হামিদের কাছে একটি তারবার্তা পাঠায়। তাতে তারা এই হুমকি দেয়, ‘আপনাকে নিজের প্রাণ ও সিংহাসন দিয়ে এই বিরোধের মূল্য পরিশোধ করতে হবে।সুলতান আবদুল হামিদ জানতেন, তিনি বিশ্বইহুদী, তাদের সম্পদ, ক্ষমতা ও তাদের প্রতিনিয়ত উস্কানির মোকাবেলা করছেন। তুরস্কের স্যালোনিকা ও অন্যান্য এলাকায় ফ্রিম্যাসন গুপ্তসঙ্ঘের ষড়যন্ত্র-বৈঠক শুরু হয়। তারা তুরস্কের উচ্চপদস্থ সামরিক কর্মকর্তাদের ক্রয় করে ফেলে এবং গুপ্তসঙ্ঘের এসব বৈঠকে তাদের প্রশিক্ষণ দেয়া হয়। ১৯০৯ সালে তারা মাহমুদ শওকত পাশাকে স্যালোনিকা দুর্গের কমান্ডার নিযুক্ত করে। মাহমুদ শওকত কনস্ট্যান্টিনোপল ঘিরে ধরে এবং অভ্যুত্থান ঘটায়। সুলতান আবদুল হামিদ পদত্যাগের বিষয়ে সম্মত হন। শাসনক্ষমতা থেকে পদত্যাগের চুক্তিপত্র নিয়ে তার সঙ্গে সাক্ষাৎ করতে যান তিনজন: কমিটি অব ইউনিয়ন এ্যান্ড প্রোগ্রেস-এর সদস্য আরসাতাদ পাশা, ইহুদি আইনজীবী ইমানুয়েল কারাসু এবং সুলতানের ব্যক্তিগত সহকারী আরিফ হেকমত।

টাকার বিনিময়ে ফিলিস্তিনের ভূমি বিক্রয়!

ফিলিস্তিনের ভূমি বণ্টনের সিদ্ধান্ত প্রকাশিত হয় ১৯৪৭ সালে নভেম্বর মাসের ২৯ তারিখে। ব্রিটেন ফিলিস্তিনে এজেন্ট নিয়োগ করেছিলো। তারা তাদেরকে নিজেদের ভূমি ত্যাগ করতে উৎসাহিত করে। সিদ্ধান্ত অনুযায়ী ব্রিটেন তাদেরকে তাদের জন্যে নির্ধারিত ভূমি প্রদান করে। ১৯৪৮ সালে ১৫ই মে ব্রিটিশ এজেন্সির (ব্রিটিশ ম্যান্ডেট) মেয়াদ শেষ হয়। ইংরেজরা ইহুদিদেরকে বা আরবদেরকে তাদের চুক্তি অনুযায়ী ভূমি প্রদান করে। ১৯৪৮ সালে ১৫ই মে ব্রিটিশরা যখন ফিলিস্তিন থেকে বেরিয়ে আসে তখন ইহুদিদের ভূমির পরিমাণ ৩ মিলিয়ন একরের বেশি ছিলো না। ফিলিস্তিনের মোট ভূমির পরিমাণ ছিলো ২৭ মিলিয়ন একর। এই ভূমি ইহুদিরা কীভাবে পেলো? সাধারণভাবে এই অপবাদ দেওয়া হয়ে থাকে যে, ফিলিস্তিনি জাতি তাদের ভূমি বিক্রি করে দিয়েছে। কিন্তু তা সত্য নয়। ইহুদিরা কীভাবে এই ভূমির মালিক হলো তা এখানে তুলে ধরছি।

তুরস্কের খেলাফত ব্যবস্থার শেষের দিকে কমিটি অব ইউনিয়ন এ্যান্ড প্রোগ্রেস-এর যেসব তুর্কি নেতা সুলতানকে অপসারিত করেছিলো, ইহুদিরা তাদের থেকে ঘুষ হিসেবে পেয়েছে ৬ লাখ ৫০ হাজার একর ভূমি। ব্রিটিশ হাই কমিশনারের পক্ষ থেকে ইহুদি এজেন্সি (Jewish Agency) বিনা পয়সায় পেয়েছে ৩ লাখ একর ভূমি। বিটিশ সরকারের প্রতিনিধি কর্তৃপক্ষ প্রতীকী মূল্যে জুইশ এজেন্সির কাছে বিক্রি করেছে ২ লাখ একর ভূমি। দুই খ্রিস্টান আর্চবিশপ ও তাদের পরিবার বিক্রি করেছে মার্জ ইবনে আমের এলাকার ৪ লাখ একর ভূমি। সুলতান আবদুল হামিদের পক্ষ থেকে উপঢৌকনের নামে ব্রিটেন ইহুদিদেরকে প্রদান করে হুলা ও বিসান অঞ্চলের ৬৫ হাজার একর ভূমি। তাইয়ান আল-বয়রুতির পরিবার ইহুদিদের কাছে বিক্রি করে আল-হাওয়ারেস উপত্যকার ৩২ হাজার একর ভূমি। সিরিয়া ও লেবাননের তাইয়ান আল-বয়রুতি, কুব্বানি, আল-জাযায়েরি পরিবার এবং খ্রিস্টান আর্চবিশপ পরিবার বিক্রি করে তুলেকারাম, জানিন ও বিসান অঞ্চলের ২৮ হাজার একর ভূমি। বিশ্বাসঘাতকতা করে ফিলিস্তিনের কিছু মুনাফিক ইহুদিদের কাছে বিক্রি করে ৩ লাখ একর ভূমি। এই বিশ্বাসঘাতকতার ফলে এরা মুজাহিদ ও বিদ্রোহীদের হাতে হত্যা ও জবাইয়ের শিকার হয়। ব্রিটিশরা ১৫ই মে ফিলিস্তিন থেকে বেরিয়ে আসার আগের দিনগুলোতে ইহুদি এজেন্সিকে দিয়ে দেয় ১ মিলিয়ন ৪ লাখ ২৫ হাজার একর ভূমি। সব মিলিয়ে ইহুদিরা সাড়ে ৩ মিলিয়ন একর ভূমির মালিক হয়।

এরপর ইংরেজ জেনারেল গ্লুব পাশার (Lieutenant-General Sir John Bagot Glubb) নেতৃত্বে সাতটি আরব রাষ্ট্রের সেনাবাহিনী ফিলিস্তিনে প্রবেশ করে। তার ফিলিস্তিনের অভ্যন্তরে ৯ মাস অবস্থান করে। এই নয় মাসে ইহুদিরা আল-লুদ ও রামাল্লা থেকে নিয়েছে ৯ লাখ ৫০ হাজার একর ভূমি; পূর্ব জালিলি ও পশ্চিম জালিলি থেকে নিয়েছে ২ মিলিয়ন একর ভূমি; আশ-শোনা, রুদাস ও মানাতিকে খলিল থেকে নিয়েছে ১ মিলিয়ন ৬ লাখ ৭৫ হাজার একর ভূমি; নাকাব মরুভূমি ও রণকৌশলগত এলাকা থেকে নিয়েছে ১২ মিলিয়ন ৭ লাখ একর ভূমি। আরব সেনাবাহিনী ফিলিস্তিনে প্রবেশের পর ইহুদিরা মোট দখল করে সাড়ে ১৭ মিলিয়ন একর ভূমি। আগের সাড়ে ৩ মিলিয়ন আর এই নয় মাসে দখলকৃত সাড়ে ১৭ মিলিয়ন মোট ২১ মিলিয়ন একর ভূমি ইহুদিরা দখল করে। ফিলিস্তিনিদের জন্যে অবশিষ্ট থাকে মাত্র ৬ মিলিয়ন একর ভূমি।

১৯৬৭ সালের আরব-ইসরাইল যুদ্ধেও আরব নেতাদের বিশ্বাসঘাতকতার কারণে ইসরাইল জয়ী হয় এবং গোলান মালভূমি পর্যন্ত দখল করে নেয়। ১৯৬৭ সালের ৫ই জুন ইসরাইল পার্শ্ববর্তী দেশগুলোর ওপর অতর্কিত হামলা চালায়। মাত্র তিন ঘণ্টার হামলায় ইসরাইল জর্ডান, মিসর, ইরাক ও সিরিয়ার আকাশ-প্রতিরা ব্যবস্থা সম্পূর্ণ ধ্বংস করে দেয়। মাত্র তিন ঘণ্টায় ছোটো একটি রাষ্ট্রের হাতে তিনটি দেশের পরাজয় ঘটে। ইসরাইলযার আয়তন পার্শ্ববর্তী রাষ্ট্রগুলোর বিশ ভাগের একভাগও নয়, যার জনগোষ্ঠী পার্শ্ববর্তী রাষ্ট্রগুলোর জনগোষ্ঠীর পনেরো ভাগের একভাগও নয় এবং যার সৈন্যসংখ্যা পার্শ্ববর্তী রাষ্ট্রগুলোর সৈন্যসংখ্যার অর্ধেকও নয়, সেই ইসরাঈলের হাতে তিনটি রাষ্ট্রের পরাজয় ঘটে। আরবদের কপালে এই কলঙ্ক তিলক কেয়ামত পর্যন্ত বিদ্যমান থাকবে।

সহায়ক গ্রন্থাবলিঃ
1. Bernard Lewis, The Emergence of Modern Turkey, Oxford, 1961.
2. T.E. Lawrence, Seven Pillars of Wisdom : A Triumph, Anchor, 1991 (first published 1922)
৩. دور الدول الإشتراكية في تكوين إسرائيل , الدكتور ابراهيم الشريقي
৪. مكائد يهودية عبر التاريخ , عبد الرحمن حبنكة, دمشق
৫. প্যালেস্টাইন থেকে বসনিয়া, মঈন বিন নাসির, ইসলামিক ফাউন্ডেশন, ২০০০।

আবদুস সাত্তার আইনী।


শেয়ার করুন

0 facebook: