Friday, January 3, 2020

সন্ত্রাসী চীনের আগ্রাসনে হারিয়ে যেতে বসেছে একটি মুসলিম ঐতিহ্যবাহী রাষ্ট্র “পূর্ব তুর্কিস্থান”


আন্তর্জাতিক ডেস্ক।। পূর্ব তুর্কিস্থান বা সিংকিয়াং হলো চীনের সবচেয়ে বড় প্রদেশ। এর আয়তন প্রায় সতের লক্ষ কিলোমিটার। সে হিসেবে তা বাংলাদেশের প্রায় দশগুণ বড়, আর আয়তনে পৃথিবীর সবচে বড় দেশ চীনের তা এক পঞ্চমাংশ। শুনলে অবাক হবেন, মহান আল্লাহ পাক প্রদত্ত প্রাকৃতিক সম্পদে টইটম্বুর এই অঞ্চল পুরো চীনের ৪০% অর্থনৈতিক চাহিদা পুরণ করে অথচ উইঘুর মুসলিমদের ৮০% জনগণ দারিদ্র সীমার নিচে অবস্থান করছে।

বর্তমান জনসংখ্যা প্রায় ২ কোটি ২০ লাখ। যার ৪৫% মুসলিম উইঘুর, আর ৪০% চাইনিজ হান। অথচ বিংশ শতাব্দীর মাঝামাঝি সময়ের সমীক্ষায় দেখা যায়, সেসময় উইঘুরদের সংখ্যা ৯০% ও হানদের অবস্থান কখনো ৬% এর বেশী ছিলনা। মাঝে চীন সরকার, বিপুল পরিমান উইঘুরদের দেশ ছাড়তে বাধ্য করে আর বেকার চাইনিজ হানদের সেই স্থানে স্থানান্তরিত করে।

উইঘুরগণ তুর্কী ভাষায় কথা বলেন, আর লিখেন আরবী অক্ষরে। ৯৫ হিজরীতে কুতায়বা বিন মুসলিম বাহেলী (রহমতুল্লাহি আলাইহি) এর কাশগড় বিজয়ের মাধ্যমে এই অঞ্চলে পরিপূর্ণভাবে ইসলাম প্রবেশ করেন। পরবর্তীতে ৩৩২ হিজরীতে সুলতান সুতুক বুগরা খানের ইসলাম গ্রহণের মধ্য দিয়ে তা ইসলামী রাষ্ট্রে পরিণত হয়। এভাবে প্রায় দশ শতাব্দী তা স্বাধীন ইসলামী রাষ্ট হিসেবে সমুন্নত থাকে।

সর্বপ্রথম ১৭৫৯ খ্রিষ্টাব্দে চীন তা অবৈধভাবে দখল করে। তাদের এই দখল চার বছর স্থায়ী হয়। দ্বিতীয়বার দখল করে ১৮৮১ সালে। পরবর্তীতে ১৯৩৩ খ্রিষ্টাব্দে উইঘুরগণ চীনের আনুগত্যকে প্রত্যাখান করে 'পূর্ব তুর্কীস্থান ইসলামী প্রজাতন্ত্র' নামে কাশগড়ে নতুন রাষ্ট্র প্রতিষ্টার ঘোষণা দেয়। কিন্তু সীমানাঘেষা রাশিয়া কখনো এই রাষ্ট্রকে মেনে নেয়নি। তারা সীমান্তে একটি স্বাধীন ইসলামী রাষ্ট্রকে নিজেদের জন্যে হুমকি মনে করলো। তাই আবার পূর্ব তূর্কীস্থানকে দখল করতে তারা চীনকে প্রত্যক্ষভাবে মদদ করলো। এই দুই শক্তিশালী পরাশক্তির সামনে টিকতে পারেনি নিরীহ এই মুসলিম রাষ্ট্রটি।

সর্বশেষ ১৯৪৯ সালে শেষবারের মত চীন পূর্ব তূর্কিস্থানকে দখল করলো। সর্বোচ্চ গোপনীয়তায় তারা ইতিহাসের জঘন্যতম মানবতাবিরোধী হত্যাকাণ্ড চালালো নাউযুবিল্লাহ।

সেখানকার মাযলুম মুসলিমদের উপর সমস্ত ইসলামী আনুষ্ঠানিকতা নিষিদ্ধ করা হলো। মসজিদ ধ্বংস করা হলো। তূর্কী ভাষার বদলে চাইনিজ ভাষাকে রাষ্ট্রভাষা করা হলো। পশ্চিমা পত্রিকাগুলোর রিপোর্ট অনুযায়ী হাজারো উলামাকে গুম করে হত্যা করা হয়েছে। সর্বশেষ তারা মুহম্মদ, ইসলাম, ইমাম ইত্যাদি ইসলামী নাম নিষিদ্ধ করেছে। যাতে উইঘুরদের সাথে ইসলামের সম্পর্ক সম্পূর্ণরূপে নিশ্চিহ্ন করা যায়।

তবে তাদের জানা নাই যে মহান আল্লাহ পাক বলেছেনঃ [يُرِيدُونَ لِيُطْفِؤُوا نُورَ اللَّهِ بِأَفْوَاهِهِمْ وَاللَّهُ مُتِمُّ نُورِهِ وَلَوْ كَرِهَ الْكَافِرُونَ] তারা (চায় তাদের) মুখের ফুঁৎকারে মহান আল্লাহ পাক উনার নূর তথা আলোকে নিভিয়ে দিতে। (কিন্তু) মহান আল্লাহ পাক উনার আলোকে পূর্ণরূপে বিকশিত করবেন যদিও কাফেররা তা অপছন্দ করে। - [সুরা আস সফঃ ৬১/৮]

পুর্ব তুর্কিস্থানকে ভুলে যাবেননা। ইতিহাসের সেই কাশগড়কে ভুলে যাবেননা। ভুলবেননা আমাদের দ্বিতীয় বুখারাকে। আল্লাহ আমাদের ভাইদের সহায় হোন।

হাসান বিন মুমিন - ইসলামের হারিয়ে যাওয়া ইতিহাস অবলম্বনে।


শেয়ার করুন

0 facebook: